সত্যি আমি কোনো দিন ভাবতে পারি নি যে আমারো ভালোবাসা হবে , কিন্তু মানুষের হাতে তো কিছু নেই ভাগ্যে যেটা থাকবে সেটাই হবে শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আমি ছোটোর থেকেই পড়াশুনার জন্য বাইরে থাকতাম , শুধু মাত্র ছুটি কিংবা পরীক্ষা শেষ হলে বাড়ি আসতাম তাও আবার অতো তাড়াতাড়ি হতো না ,কারণ আমার বাড়ির থেকে কলজে এর দূরত্ব বেশি ছিলো। তো একবার এক্সাম দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম মোটামুটি এক সপ্তাহ এর মতো ছুটি ছিল ,আমার সকাল ৮.৩০ এ বাস ছিল, তারজন্য তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বাস স্টান্ড যায়। গিয়ে দেখি বাস টা তে ভিড় একটু বেশিই ছিল কিন্তু আমার কাছে আর কোনো উপায় ও ছিল না কারণ এর পর বাস অনেক দেরিতে ছিল , আর ভিড় এর জন্য সিট পেতেও দেরি হবে আমার, ৫ ঘন্টার রাস্তা কিভাবে কাটবে বুজে উঠতে পারছিলাম না ।
কোনোরকমে মাঝের দিকে গিয়ে একটা সিট এর পশে দাঁড়ালাম সিটে একটা, মেয়ে আর একটা বয়স্ক মহিলা ছিল। সিট পাওয়ার কোনো আসা ছিল না কিন্তু দেখি একটু পরে বয়স্ক মহিলা টা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই আমি তাড়াতাড়ি তার সিটে আমার ব্যাগ টা দিয়ে দিয় এভাবে কোনো রকমে সিট পেয়েযাই । পশে বসা মেয়েটিকে আগে ভালো করে লক্ষ করি নি কিন্তু বসার পর দেখলাম মেয়েটির বয়স মোটামুটি ১৭+ এর কাছাকাছি হবে দেখতেও ফর্সা , সেও হয়তো কোনো স্কুল থেকেই বাড়ি ফিরছে ,কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছিলো কিন্তু কোনো কারণ পাচ্ছিলাম না , তারপর
আমি:- জানালা টা একটু ভালো করে খুলে দিন তো বাতাস কম আসছে , (সে জানালা পুরোটা খুলে দেয় )
আমি:- আচ্ছা আপনি কোথায় যাবেন ?
সে:- ভবানীপুর এ ( ভবানীপুর তা আমি যেখানে নামবো তার ৩টা বাস স্টপেজে আগে ছিলো ). আর আপনি কোথায় নামবেন ?আমি:- কোমলপুরে , আপনি কি বাড়ি যাচ্ছেন ?
সে:- হ্যাঁ , আমি পড়াশুনার জন্য সিলদা তে থাকি।
আমি:- ও , কোন ক্লাসে পড়েন আপনি ?
সে:- ক্লাস টুয়েলভে , আর আপনি ?
আমি:- আমি 1st ইয়ার তে।
সে:- কি নিয়ে পড়ছেন আপনি ?
আমি:- Computer Applications নিয়ে। আপনি বললেন না আপনি কি নিয়ে পড়ছেন ?
সে:- আমি সাইন্স নিয়ে পড়ছি আর আমারো Computer Application নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছা (কথা টা শুনে জানি না কেন আমার কিন্তু অসম্ভব ভালো লাগলো )
Bengali love story
[তার সঙ্গে কথা বলতে আমার খুব ভালো লাগছিলো কারণ সে কথা বোলাতে ইন্টারেস্ট ছিল, না হলে এবারের মেয়েকে তো যেটা জিগ্গেস করবে সেটা বাদ দিয়ে অন্য কিছু একটা বেশি বলবে না , সে ক্ষেত্রে মেয়েটি একটু ডিফ্রেন্ট ছিলো , এর পর মেয়েটি আমাকে Computer Application নিয়ে পড়তে হলে কি করতে হবে এই টপিক এ আধা ঘন্টা কথা হলো ,আর একটা জিনিস আমি লক্ষ করলাম মেয়েটি কথা কিন্তু খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ]
আমি:- আপনার সাথে এতো কথা বলা হল আপনার নাম টা তো এখনো জানা হয় নি
সে:- আমার নাম মেঘা , আপনার ?
আমি:- আমার নাম আকাশ।
আমি:- আচ্ছা আপনাদে বাড়িতে কে কে আছে ?
মেঘ:- আমাদের জয়েন্ট ফ্যামেলি , অনেক লোক আছে ,বাবা ,মা ,ভাই ,কাকা। জেঠু ,বোরো জেঠু , আর তাদের ছেলেমেয়ে ,কাকী জেঠি দাদু দিদিও আছে, আমাদের অনেক লোক বাড়িতে তোমাদের বাড়িতে কে কে আছে ?আমি:- আমাদের বাড়িতে অতো লোক নেই ,আমি ,বাবা ,মা,ডাকুম আর দিদি ছোট্ট পরিবার।
[আমাদের কথা বলতে ওর বাস স্টপেজ মোটামোটি চলে এসেছে ]
আমি:- মেঘা একটা কথা বলবো কিছু মনে করবে না ?
মেঘা:- বল
আমি:- তোমার ফোন নানাম্বার টা কি দেয়া যাবে ?
মেঘা:- [হেঁসে বললো ] কেন দেয়া যাবে না ,
সে বাস থেকে নামবার সময় হেসে আসছি বলে নেমেগেলো আমিও হেসে দিলাম।
তার কিছুদিন পর কি মনে হলো -ভাবলাম দেখি একবার তাকে কল করে ,
আমি:- চিনতে পারছো ?
মেঘা:- না
আমি:- আকাশ
মেঘা:- ও হ্যাঁ চিনতে পেরেছি কেমন আছো বোলো ?
আমি:- ভালো আছি তুমি কেমন আছো ?
মেঘ :- ভালো আছি
আমি:- কি করছো বোলো ?
মেঘা :- এই যে এই মাত্র রান্না শেষ করলাম
আমি:- বা তুমি রান্নাও করতে পারো
[ এরকম ভাবেই আমাদের মোটামোটি ২০ মিনিট কথা বলা হলো ]
তার পর যখন আমরা কলেজ গেলাম তখন ওকে কল করে একসাথে কলেজ আসি ওরর অবশ্য অন্য স্কুল ছিল।
এর পর থেকে আমাদের বন্ধুত ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণত হয় , আর সময় করে আমরা দেখাও করি ,এখনো অবশ্য ওর বা আমার বাড়িতে আমাদের বেপারে কেও জানে না , কিন্তু বলেছিলো আমাকে ওদের বাড়িতে নিয়ে যাবে ….
Bengali best romantic love story
দিনগুলো বেশ সুন্দরই কাটছিল। আকাশ আর মেঘার কথার যেন কোনো শেষ নেই। মাঝে মাঝে মেঘার ফোন কল না পেলে আকাশের মন খারাপ হয়ে যেত। অন্যদিকে, মেঘাও আকাশকে ফোন করার অজুহাত খুঁজত।
একদিন মেঘা ফোন করে বলল—
মেঘা: আকাশ, তুমি কি শনিবার সময় পাবে?
আকাশ: হ্যাঁ, বলো। কি ব্যাপার?
মেঘা: আমাদের বাড়িতে দাদুর জন্মদিন। সবাই আসবে। আমি চাই তুমি এসো।
আকাশ: সত্যি বলছো? তুমি নিশ্চিত তোমার পরিবার কিছু বলবে না?
মেঘা: আমি সামলে নেব। তোমাকে একবার তাদের সাথে দেখা করাতে চাই।
আকাশের মনে আনন্দের ঝড় উঠল। এতদিন ধরে মেঘার পরিবার সম্পর্কে শুনে এসেছে, এবার নিজে দেখা করার সুযোগ পাবে।
শনিবার সকালেই আকাশ রেডি হয়ে মেঘার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। মেঘার দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে সে কিছুটা নার্ভাস হয়ে গেল। এত বড় বাড়ি, এত লোক! তবে মেঘা তাকে দেখে এগিয়ে এলো।
মেঘা: ভয় পেও না। আমি আছি। চলো।
আকাশ: (হেসে) আচ্ছা, কিন্তু যদি তোমার বাবা রেগে যান?
মেঘা: (মুচকি হেসে) আমি সামলে নেব।
বাড়ির ভেতরে ঢুকে আকাশ মেঘার পরিবারের সবাইকে দেখল। সত্যি মেঘা ঠিক বলেছিল, তাদের পরিবার বেশ বড়। মেঘা তার বাবা-মাকে আকাশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
মেঘার বাবা: (গম্ভীর মুখে) তুমি কি করো?
আকাশ: আমি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে পড়াশোনা করছি।
মেঘার বাবা: ভবিষ্যতে কি করার ইচ্ছা?
আকাশ: স্যার, আমার স্বপ্ন একটা ভালো চাকরি পাওয়া, যাতে নিজে আর আমার পরিবারকে ভালো রাখতে পারি।
মেঘার বাবা আর কিছু বলেননি, তবে মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল তিনি সন্তুষ্ট।
দুপুরের দিকে মেঘা আকাশকে ছাদের দিকে নিয়ে গেল। ছাদে দুজন একা বসে রইল। চারদিকে হালকা হাওয়ায় মেঘার চুল উড়ছিল। আকাশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল।
আকাশ: মেঘা, তোমাকে একটা কথা বলি?
মেঘা: বলো।
আকাশ: তোমার সাথে কথা বলা, সময় কাটানো… আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।
মেঘা: (লজ্জা পেয়ে) এসব কথা বলার কি দরকার?
আকাশ: দরকার আছে। কারণ তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
মেঘা হেসে বলল—
মেঘা: আমি জানি।
আকাশ ধীরে ধীরে মেঘার হাত ধরল।
আকাশ: যদি কখনো তোমার বাড়ির লোক মেনে না নেয়, তাহলে কী করবে?
মেঘা: (তাড়াতাড়ি) আমি জানি, ওরা আমাদের মেনে নেবে। আর যদি না নেয়, তাহলে আমি তোমার সাথে থাকব।
আকাশ মেঘার চোখে দৃঢ়তা দেখতে পেল। তার মন আরও শক্ত হয়ে গেল।

Bengali romantic love story 2025
এরপর মেঘা আর আকাশের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। দুজনেই নিজেদের পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা চালাতে থাকল।
একদিন মেঘা ফোন করল—
মেঘা: আকাশ, বাবা বলেছে তোমাকে আমাদের বাড়িতে আবার আসতে।
আকাশ: সত্যি? কেন?
মেঘা: বাবা তোমাকে নিয়ে কথা বলতে চান। আমার মনে হয়, এটা ভালো দিক।
আকাশের মন দুশ্চিন্তায় ভরে গেলেও সে ভাবল, মেঘার জন্য সব করবে।
পরের দিন আকাশ মেঘার বাড়ি গেল। মেঘার বাবা তাকে বসিয়ে কথা বললেন।
মেঘার বাবা: আকাশ, তোমাদের সম্পর্ক নিয়ে আমরা সবাই জানি। আমি জানি, তুমি আমার মেয়েকে ভালোবাসো। কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সংসার চলে না।
আকাশ: স্যার, আমি জানি। আমি চেষ্টা করব মেঘাকে কখনো কোনো কষ্ট না দিতে।
মেঘার বাবা কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তারপর বললেন—
মেঘার বাবা: যদি প্রমাণ করতে পারো তুমি মেঘাকে সুখী রাখতে পারবে, তাহলে আমি কিছু বলব না।
আকাশ মন থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল যে সে তার ভালোবাসার জন্য সব করবে।
এই গল্পের পরবর্তী পর্বে হয়তো আমরা দেখব, কীভাবে আকাশ তার প্রতিজ্ঞা পূরণ করে এবং তাদের ভালোবাসা জীবনের সব বাধা পেরিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যায়।