এলার্ম দিয়েছিলাম ৮ টা তে কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে বেজে গেলো ৯ টা তাই তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট না করে অফিসের উদেশ্যে রওনা হলাম। একটু দেরি হওয়াতে দৌড়ে ঢুকতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম না হলে বস এর সাথে ধাক্কা হয়ে যেত।
বস:- আপনি কে ??
মেনেজার:- মেডাম উনি আমাদের অফিসে ডিজাইনের কাজ করেন।
বস:- এটা অফিসে নাকি আড্ডা দেয়ার জায়গা ,এতো দেরি কেন অফিসে আসতে ??
আমি:- না মেডাম ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়েছিল তাই
বস:- আর কোনো দিন এরকম যেন না হয়।
আমি:- জি মেডাম ,
বস:- যান নিজের কাজে যান
আসলে আমি প্রতিদিনই একটু দেরি করেই অফিসে আসি কিন্তু আজ একটু বেশিই দেরি হয়েগেছিলো। তাই এই শীতের দিনে মুখে ব্রাশ না করে , পা মুছে চটি পরেই অফিসে চলে এসেছি।
তারপর নিজের চেয়ারে বসে ভাবছি অফিসে নতুন বস তাও আবার মেয়ে , দেখতে তো ভালোই কিন্তু মেজাজ এতো খারাপ কেন , যাকগে সেটা ভেবে আমার লাভ নেই।
কিছুক্ষন পর বসের রুম থেকে কল এলো ,বস দেখা করতে ডেকেছেন।
তারপর সোজা গিয়ে বসের সামনের চেয়ারে বসে পড়লাম।
বস:- এসব কি হচ্ছে ??
আমি:- মানে ??
বস:- আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা না করেই সোজা রুমে চলে এলেন। আর আমি আপনাকে বসতে বলি নি তাও বসেপড়লেন আপনি ??
আমি:- আপনিই তো আমাকে ডাকলেন এতে আবার নতুন করে জিজ্ঞাসা করার কি আছে ??
বস:- এটা অফিস আর এখানে কিছু নিয়ম আছে যা মেনে চলতে হয়, আর আপনি তো দেখছি কোনো কিছুই মানেন না।
এই ফাইল টা রাখুন এতে সব ডিটেলস দেয়া আছে ২ দিনের মধ্যে রেডি করে আমাকে দেবেন।
আমি:- আমি সময় নিয়ে কাজ করি না
বস:- মানে কি বলতে চাইছেন আপনি ??
আমি:- আমি ২ দিন এর মধ্যে করতে পারবো না , সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করি
বস:- তাহলে কবে পাবো ফাইল টা ?
আমি:- জানি না।
বস:- আপনি যান এখন মাথা খারাপ হচ্ছে আমার
Bengali romantic golpo 2025
তারপর আমার অফিসের রুমে চলে এলাম ,চেয়ার টা তে বসে ভাবছি ডিজাইন কি হালুয়া নাকি যে আমি ২ দিন এর মধ্যে করে দেবো ,আজকেই জয়েন করেছে আজ থেকেই চাপ দেয়া শুরু।
তারপর কিছুক্ষন কাজ করে আমি বাড়ি চলে এলাম।
তারপরের দিনও কোনো কারণে লেট হয়েগেলো ,গিয়ে চেয়ারে বসতেই একজন বললো ,মিষ্টি মেডাম আপনাকে ডাকছে , মনেমনে ভাবলাম আজ আবার গালি খেতে হবে।
বস:- কি বেপার আজকেও লেট যে ??
আমি:- না মানে মেডাম আজ ঘুম থেকে উঠতে…….. [পুরো টা বলার আগেই ]
বস:- চুপ করুন এখানে আপনাকে কাজ করার জন্য সেলারি দেয়া হয়। আপনাকে যে ফাইল টা দিয়েছিলাম সেটার কি অবস্থা ?
আমি:- আপনাকে তো বলেছিলাম মেডাম আমি ধীরে ধীরে সময় নিয়ে করবো ??
বস:- তাহলে কি আপনি ধীরে ধীরে এক বছর টাইম নিয়ে করবেন নাকি ?? যান গিয়ে নিজের কাজ মন দিয়ে করুন।
এই নতুন মেডাম এর নাম তো মিষ্টি ,দেখতেও তো পরীর মতো নামের সাথে খুব সুন্দর মিশেছে কিন্তু এতো রাগ কেন যে আর গালি দিলেও বিশ্বাসেই হয় নি যে গালি দিচ্ছে। কাজ না করে অফিসে আবার নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়লাম।কিছুক্ষন পর বস আবার চলে এসেছে
বস:- এটা কি হচ্ছে , আপনি নিজের কাজ না করে ঘুমাচ্ছেন কেন ??
আমি:- না আমি একটু……
বস:- দেখুন আপনি কিন্তু সীমানা পার করছেন। এমন করলে আপনি কিন্তু চাকরি হারাতে পারেন।
এই বলে চলে গেলো আর আমিও বাড়ি চলে এলাম।
৫ দিন পর আবার আমাকে অফিসে ডাকলো
বস:- ফাইল কোথায় ??
আমি:- এই যে ফাইল
বস:- ডিজাইন হয়েছে ??
আমি:- না
বস:- তাহলে কি আপনাকে এখানে লোক দেখার জন্য রাখা হয়েছে ?? একটা কাজ তো আর ঠিক করে হয় না , কাজ করার যদি ইচ্ছা না থাকে চাকরি ছেড়ে দিন না কে আপনাকে জোরজবস্তি করছে ,আর বাড়িতে শুধু ঘুমান
আমি:- কিছু না বলে চলে এলাম, মাথা পুরো গরম হয়ে গেলো আমার রুমে এসে গেম খেলতে শুরু করেদিয়েছি।
Bengali romantic love story 2025
আবার একটু পরে চলে এসেছে
বস:- আপনি গেম খেলছেন কেন??
আমি:- ভালো লাগছে না তাই গেম খেলছি
বস:- ওকে যান আপনাকে ছুটি দেয়া হলো বাড়িতে গিয়ে যত খুশি গেম খেলবেন , আপনাকে চাকরি থেকে ফায়ার করা হলো
আমি:- আপনি ভেবে শুনে ফায়ার করলেন তো ??
বস:- আপনার আর কোনো দরকার নেই আপনি এখন আসতে পারেন।
তারপর অফিসের সবাই কে মিষ্টি খায়িয়ে বাড়ি চলে এসেছি। সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালাম কারণ এই অফিস থেকে এটা আমি পঞ্চম বার বেরোচ্ছি।
মনে মনে ভাবলাম যাক কিছুদিন তো ছুটি পাওয়া গেলো। বাড়িতে এসে মাকে বললাম মিস্ট খাও আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছে, মা বললো কেন রে , আমি দেরি করে অফিসে যায় বলে।
মা:- আচ্ছা বাবা একটা কথা বলবো তুই শুনবি ??
আমি:- মা এরকম ভাবে বলছো কেন কোনো দিন কি আমি তোমার কথা শুনি নি বোলো।
মা:- আমার বান্ধবীর মেয়ে কে আমার খুব পছন্দ হয়েছে আর ওকেই তোর বউ করবো। তোর ফটো ওকে দেখিয়েছি ওর তোকে খুব পছন্দ , আমি ওদের কে বলেছি আমার ছেলে কে আমি যাকে বলবো তাকেই বিয়ে করবে।
আমি:- হাঁ মা তুমি ছাড়া আমার তো আর কেও নেয় ,তোমার যাকে পছন্দ আমি তাকেই বিয়ে করবো , কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কেন মা ??
মা:- না বাবা তুই তো খুব বেস্ত থাকিস আবার জয়েন করার আগে বিয়ে টা সেরে নে।
আমি:- আচ্ছা তুমি যেমন চাইবে
মা তো আমার কথা শুনে খুব খুশি সাত দিনের মধ্য বিয়েও ঠিক করে দিলো , আমি কিন্তু আমার বউ দেখিনি ,আর মায়ের পছন্দ মানে তাতেই খুশি আমি। যায় হোক দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো
অবশেষে বিয়েও হয়েগেলো ধুমধাম করে , বাসর ঘরে ঢুকতেই দেখি বউ ঘোমটা নিয়ে বিছানায় বসে আছে , আমি আসতে করে ঘোমটা উঠতেই
আমি:- তুমি……………..
বউ :- হ্যা লেট্ বাবু আমি
আমি:- আমি তোমাকে বিয়ে করেছি
বৌ:- জি লেট বাবু আমাকেই বিয়ে করেছেন ,অবাক হচ্ছেন তাই না ??
আমি:- হ্যাঁ সে তো অবশই অবাক হবো।
বৌ:- আসলে আমি যেদিন আপনাকে প্রথম দেখেছি সেদিন এই ভালো লেগেছিলো তার পর খবর নিয়ে জানলাম আমার মা আপনার মায়ের বেস্ট ফ্রেন্ড বেশ হয়েগেলো তারপর
আমি:- যা লাস্টে আমার গুন্ডি বউ হলো
বউ :- এই একদম আমাকে গুন্ডি বলবে না , আমি তোমার অফিসের বস
Best Bengali love story
আমি:- আমি ছেড়ে দিয়েছি অফিসা
বৌ:- ছেড়ে দিয়ে পালাবে কোথায় ??
আমি:- আচ্ছা যা হয়েছে হয়েছে চলো এবার শুবো
বউ :- এতো তাড়াতাড়ি তোমার সাথে অনেক গল্প করার আছে
আমি:- না মেডাম আজ অনেক ঘুম পাচ্ছে ২ দিন অফিস ছুটি আছে কাল সারাদিন কথা হবে
বউ মুচকি হেসে বললো আচ্ছা ঠিক আছে। মিষ্টির মুখের হাসি টা যে কি মিষ্টি এটা দেখেই আমি পাগল হয়ে যায় ,তারপর মিষ্টি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো
বিয়ের কয়েকদিন পরেই আমার মাথায় একটা জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছিল—আমার বউ যে অফিসের বস, সেটা জানলে অফিসের কলিগরা কী বলবে! মিষ্টি এই বিষয়টা নিয়ে মোটেও চিন্তিত না, বরং মজা নিচ্ছে। সারাক্ষণ বলছে, “তোমার লেট বাবু ইমেজ তো অফিসে খুব জনপ্রিয়, এখন কী হবে?”
আমি একটু চিন্তিতভাবে বললাম, “তোমার এই মজা করার অভ্যাস আর যাবে না, তাই না?”
মিষ্টি মুচকি হেসে বলল, “তুমি চিন্তা করো না। আমি আছি না তোমার সব সামলে নিতে।”
আমাদের বিয়ের পর প্রথম অফিসে যাওয়ার দিনটা ছিল একদম সিনেমার মতো। অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই হাসিমুখে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। সবার চোখে একটাই প্রশ্ন—”বস আর লেট বাবু?” কেউ কেউ মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছিল, আর কেউবা মজা নিচ্ছিল। আমি একটু লজ্জিত হলেও মিষ্টি পুরো বিষয়টাকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিল।
একদিন লাঞ্চ ব্রেকে মিষ্টি হঠাৎ বলল, “এই শোনো, তুমি কি জানো, তোমার লেট আসার জন্য তোমাকে বকাঝকা করতাম, কিন্তু মন থেকে তোমার প্রতি অন্যরকম একটা টান ছিল।”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “তাহলে এত রাগ দেখাতে কেন?”
মিষ্টি বলল, “রাগ দেখাতাম, কারণ তুমি খুবই অগোছালো। কিন্তু তোমার সরলতা আর গেম খেলার বাচ্চামিটা আমাকে ভীষণ টানত।”
আমি একটু মজা করে বললাম, “তাহলে তুমি আমাকে পছন্দ করতে, অথচ চাকরি থেকে ফায়ার করেছিলে কেন?”
মিষ্টি হেসে বলল, “তোমাকে যদি সেদিন ফায়ার না করতাম, তাহলে এই বিয়েটা সম্ভব হতো না। আমি তোমার ওপর খুব রাগ করেছিলাম, কিন্তু মনের ভেতরে ভালোবাসা ছিল।”
আমি মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললাম, “তোমার এই বুদ্ধি বোধহয় আমৃত্যু আমাকে মুগ্ধ করে যাবে।”
মিষ্টি হেসে বলল, “ঠিকই ধরেছ, আমি মিষ্টি, মিষ্টির মতোই তোমার জীবনে সব সময় মিষ্টি ছড়াব।”
তারপর আমাদের দিনগুলো একের পর এক ভালোবাসা আর হাসি-খুশির মধ্যে কেটে যাচ্ছিল। আমি মিষ্টিকে নিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে পার্কে যেতাম, হাত ধরে গল্প করতাম। মিষ্টি আমার জীবনের প্রতিটা অংশে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ল যে মনে হয়, আমাদের জীবনটা যেন একটা সুন্দর রোমান্টিক গল্পের মতো।
একদিন মিষ্টি আমার কাছে এসে বলল, “তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছাটা কী?”
আমি একটু ভেবে বললাম, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হলো, তুমি আমার জীবনে এমনভাবে থাকো যেন আর কোনোদিন আমাকে একা থাকতে না হয়।”
মিষ্টি আমার হাতটা শক্ত করে ধরল আর বলল, “তোমার জীবনে আমি শুধু মিষ্টি না, তোমার সবকিছু হয়ে থাকতে চাই।”
Bengali office love story 2025
আমি মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললাম, “তুমি তো সেটা হয়েই গেছ।”
মিষ্টি হেসে বলল, “তাহলে তো মিষ্টি জীবনের গল্প শুরু হয়ে গেছে।”
তখন থেকেই আমাদের গল্পটা আরো গভীর হতে লাগল। মিষ্টি আর আমি একে অপরের ছায়া হয়ে গেলাম। আমাদের জীবনটা এখন যেন একটা রঙিন ছবি, যেখানে প্রতিটা মুহূর্তে শুধুই ভালোবাসার রঙ লেগে থাকে।
শেষে বলতে হয়, জীবনের মিষ্টি মুহূর্তগুলোই আসলে সবকিছু বদলে দেয়। আর সেই মিষ্টি মুহূর্তগুলোই তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ।